পেকুয়ায় আড়তদারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ৪২ ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ীর মাছ বিক্রি বন্ধ
কক্সবাজারের পেকুয়া বাজারে আড়তদারদের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণ, অসম দামে মাছ বিক্রি, দাদন ও অতিরিক্ত দামে মাছ কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ তুলে মাছ বিক্রি বন্ধ রেখেছেন ৪২ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পেকুয়া বাজারের মাছের দোকানগুলো বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। ব্যবসায়ীদের দাবি, দাবি-দাওয়া মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা মাছ বিক্রি করবেন না।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আড়তদারদের কাছ থেকে দাদন নেওয়ার কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই তাঁদের কাছ থেকে মাছ কিনতে হয়। একই মাছ দিনের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন দামে বিক্রি হওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের পরও আড়ত খোলা রেখে খুচরা মাছ বিক্রি করায় তাঁদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, পেকুয়া বাজারে চারজন আড়তদারের কাছে ৪২ জন ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী অনেকটা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রতি লাখ টাকার মাছ কেনাবেচায় আড়তদাররা ৫ হাজার টাকা করে আদায় করেন।
ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে—সকাল ৫টা থেকে ১০টা পর্যন্ত আড়ত খোলা রাখা, এরপর আড়ত বন্ধ রাখা এবং বাইরে থেকে মাছ নিয়ে আসা ব্যবসায়ীদেরও বাজারে বসে মাছ বিক্রির সুযোগ দেওয়া।
পেকুয়া বাজারের মাছের দোকানের ইজারাদার আব্দুল মান্নান বলেন, বাজারে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হয়। তাঁর মতে, সকাল ৫টা থেকে ১০টা পর্যন্ত আড়ত খোলা রাখা যেতে পারে। এরপর আড়ত বন্ধ রাখা উচিত।
এদিকে মাছ বিক্রি বন্ধ থাকায় সাধারণ ক্রেতারাও ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। অনেকেই মাছ কিনতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তিনি খোঁজ নিয়ে ইজারাদারের সঙ্গে কথা বলবেন। তাঁর ভাষ্য, আড়ত নির্দিষ্ট সময়ে খোলা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক; সব সময় খোলা রাখা উচিত নয়।
This theme has been developed by OURISLABD.