পেকুয়ায় বিষধর গোখরা উদ্ধার, বন বিভাগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক আবাসে অবমুক্ত
খোরশেদুল ইসলাম:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের টেকঘোনা পাড়া এলাকায় স্থানীয় জনসচেতনতা ও বন বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগে একটি বিষাক্ত খৈয়্যা গোখরা (স্থানীয়ভাবে পরিচিত) সাপ উদ্ধার করে নিরাপদে সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের দায়িত্বশীল ভূমিকার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেকঘোনা পাড়ার একটি পুকুরপাড়ে পাতা জালে সাপটি আটকে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন বাসিন্দা শওকত হাসান অত্যন্ত দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে সাপটিকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তিনি সাপটি পুঁইছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বিট অফিসে হস্তান্তর করেন।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা সাপটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে সেটিকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে পুঁইছড়ি বিটের আওতাধীন জোকখোলা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে (GPS: N-21°53'49.0", E-91°59'46.1") সাপটি অবমুক্ত করা হয়।
অবমুক্ত কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন পুঁইছড়ি বিটের ফরেস্ট গার্ড মো. জুয়েলুর রহমান, জুনিয়র ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট সুভাষ চন্দ্র লস্কর, সাপ উদ্ধারকারী শওকত হাসান, এনজিও কর্মী জাহেদুল আলম রিফাত, গণমাধ্যমকর্মী মো. আরকান এবং স্থানীয় ভিলেজ কনজারভেশন ফোরামের সদস্যরা।
পুঁইছড়ি বিট কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন,বন্যপ্রাণী আমাদের পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্বিচারে হত্যা না করে উদ্ধার ও সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব। স্থানীয় জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, খৈয়্যা গোখরা অত্যন্ত বিষধর হলেও সাধারণত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে। বনাঞ্চল ধ্বংস, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং খাদ্যের অভাবে এসব সাপ লোকালয়ে চলে আসে। ফলে জনসচেতনতা, দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম এবং নিরাপদ অবমুক্তকরণই হতে পারে মানুষ ও বন্যপ্রাণী উভয়ের সুরক্ষার কার্যকর উপায়।
স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা মনে করছেন, পেকুয়ায় এ ধরনের কার্যক্রম শুধু বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নয়, বরং পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বন বিভাগ ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে উপকূলীয় অঞ্চলের বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষায় আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
This theme has been developed by OURISLABD.
Post a Comment