ট্রাম্পের বিদায়ের চার দিন পরই চীন সফরে পুতিন, সি চিন পিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই চীনে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং বর্তমান অস্থির বিশ্বব্যবস্থায় চীনকে একটি নির্ভরযোগ্য ও প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে তুলে ধরার কৌশল। মঙ্গলবার রাতে বেইজিংয়ে পৌঁছালে পুতিনকে স্বাগত জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বুধবার সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।
দুই নেতার এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ইউক্রেন যুদ্ধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া চীনের ওপর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চীন এখন রাশিয়ার স্থলপথের জ্বালানি সরবরাহের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রস্তাবিত ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ পাইপলাইন প্রকল্পটি এই বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়া ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তির ২৫ বছর পূর্তির প্রাক্কালে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০০১ সালের সেই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের মতাদর্শগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের অবসান ঘটেছিল। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আন্তবাণিজ্য দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ২৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে জটিল সম্পর্ক সামলাতে মস্কো ও বেইজিং একে অপরের আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। যদিও চীন কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক জোটে জড়াতে সতর্ক, তবুও নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়ার মাধ্যমে দেশ দুটি তাদের কৌশলগত সমন্বয় জোরদার করছে। পুতিন ও সি চিন পিংয়ের এই ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ট্রাম্পের সফরের পরপরই বেইজিংয়ে পুতিন ও সি চিন পিংয়ের বৈঠক। ইউক্রেন যুদ্ধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও চীনের এই ঘনিষ্ঠতা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: প্রথম আলো
This theme has been developed by OURISLABD.
Post a Comment