খোরশেদুল ইসলামঃ
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় এক যুবককে ছুরিকাঘাত ও মারধর করে নগদ দুই লক্ষ টাকা ও হাতের ঘড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৬ টার দিকে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দশেরঘোনা জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত যুবকের নাম লোকমান হাকিম (২৪)। তিনি একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনঘোনা এলাকার ওমান প্রবাসী বেলাল উদ্দিনের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তার বাম চোখের উপরে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর জখম রয়েছে।
আহত লোকমান হাকিম বলেন, বিকেলে তিনি নিজ বাড়ি থেকে দুই লক্ষ টাকা নিয়ে অটোরিকশাযোগে বারবাকিয়া ইউনিয়নের ফাঁশিয়াখালী সবজীবন পাড়া এলাকায় নানার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে দশেরঘোনা জামে মসজিদের কাছে পৌঁছালে সুজাঙ্গীরের নেতৃত্বে তার ভাই আলমগীর, জাহাঙ্গীর,আজম উদ্দিনের ছেলে সাইফুল, রিদুয়ান, গুরা মিয়া, আব্দু ছালামের ছেলে মান্নান, মাহমুদুল করিম, নতুনঘোনার ফজল করিমের ছেলে মামুনসহ ৮ থেকে ১০ জন লোক গাড়ি গতিরোধ করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে
নগদ টাকা ও হাতঘড়ি ছিনিয়ে নেয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে তার ছবি ব্যবহার করে সুজাঙ্গীরের নামে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি জানান, ওই আইডির সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. কালু বলেন, লোকমান আমার ভাতিজা। হামলার সময় আমরা দশেরঘোনা ব্রিজ স্টেশনে ছিলাম। খবর পেয়ে গিয়ে তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীদের সঙ্গে তাদের পরিবারের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হামলা হতে পারে। কিছু দিন আগেও আমার ভাই শওকত আলীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, হামলাকারী নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তারা এখনও বীরদর্পে এলাকায় নানান অপরাধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খাইরুল আলম জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





